Tags » Fictional Memoir

Short short story: Sunday Dinner

This short short story was originally published on The Community Storyboard in May 2013.  With some minor revisions, I’m reprinting it here. 

Sunday Dinner

The child’s cry pierced my ears, and I thanked God again that I was too blind to see her tear-soaked red face.  991 more words

Writing

পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (অন্তিম পর্ব)

 

 

খুব সকালে সুপুরি গাছর ফাঁক দিয়ে খুড়িমার ছাদ টপকে সকালবেলার রোদ পূর্ণলক্ষ্মীর ঘরটাকে একেবারে ঝলমলে করে দেয়। সকাল ছটাতেই ঘর গরম। মা্ন্ধাতার আমলের রেডিও চালিয়ে দিলেই শোনা যায়, “বন্দেমাতরম্…”। এ নিয়ম সেই কবে থেকে চলে আসছে। তার একটু আগেই অবিশ্যি বাড়ি জাগে। উনুনে আঁচ পড়ে নিরামিষ ঘরে তারপর বিশাল কেটলিতে চায়ের জল বসে। আশির দশকের আগে এবাড়িতে গ্যাস ঢোকেনি। পূর্ণলক্ষ্মী তাঁর ‘উগ্র আধুনিকা’ মেয়েদের বলেছিলেন, ওসব তোমরা ব্যবহার করো মা…তোমাদের সব আপনি আর কোপনির সংসার। আমার বাড়ি সারাদিন ধরে যজ্ঞিবাড়ির রান্না হয়, আমি খরচ কুলিয়ে উঠতে পারবোনা”। সে যাই হোক্, সেই ‘রাবণের চিতা’ জ্বলার আগেই পূর্ণলক্ষ্মী মাথায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে, শাড়ি জামা বদলে ফুলের টুকরি আর আঁকশি নিয়ে বারান্দায় বেরোন। একটি দুটি করে আঁকশির টানে কলকে ফুলে সাজি ভরে যায়। শোবার ঘরের পাশের বড় ঘরে বিশাল খাট, যেটা আগে ছেলেপুলেতে ভরে থাকতো, সেটার পাশ দিয়ে একটু এগিয়ে একটা বড় জানালার কোলে পূর্ণলক্ষ্মীর ঠাকুরের আসন। একই জায়গায় আছে কতবছর ধরে। ঐ আসনের সামনে বসেই ষোড়শীবালা গোরা সার্জেন্টের চোখে ধুলো দিয়েছিলেন মণি মারা যাওয়ার পর…সেসব কতদিন আগেকার কথা। আজকাল আর বেশীক্ষণ ধরে পূজোপাঠ করতে পারেননা পূর্ণলক্ষ্মী। শরীরে জোর কমে আসছে, বেশীক্ষণ বসে থাকলে কোমরে লাগে। ঐ যা একটু গুরুমন্ত্র জপ করা আর গৃহদেবতা কালীর পায়ে দুটো ফুল গুঁজে দেওয়া। ঐ করতে করতেই সাড়ে ছটা বাজে। ততক্ষণে তিনতলা থেকে বড় কাঁচের গেলাসে বেশী দুধ চিনি দিয়ে চা আর একটা কাঁচের প্লেটে দিস্তে খানেক মেরী বিস্কুট আসে। আরাম কেদারার হাতলে সে সব নামিয়ে রাখা হয়। পূর্ণলক্ষ্মী এখন অনেকক্ষণ ধরে বিস্কুট ভিজিয়ে চা খাবেন। এইসময়টা তিনি একা। করুণা বরাবরই দেরী করে ওঠে। পায়ের কাছে বসে থাকে আধা এ্যালসেশিয়ান টমি। পূর্ণলক্ষ্মীর শেষ বয়সের পুষ্যি।