Tags » Roja

রোজা ।

খুব ছোটবেলা থেকেই রোজার মাস আমাদের খুব আনন্দের মাস। কারণ এই মাসে স্কুল বন্ধ থাকে, সামনে থাকে ঈদ আর প্রতিদিন ভাল ভাল খাবার। এই প্রিয় মাসে কেন মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয়, এই বোধ আমার অনেকবার বদলেছে। একসময় জানতাম মুমিন ব্যক্তি রোজা রাখে, বেহেশতে যাবার জন্য এটা খুবই জরুরী। নামাজ আর রোজা যে করে সে মুসলমান।

কেউ কেউ ছিলেন হাফ মুসলমান তারা নামাজ পড়েননা রোজা রাখেন। আলোচনায় শুনতাম নামাজের চেয়ে রোজা ছোট ইবাদদ। নামাজের নাকি ১৭ ফরজ আর রোজার নাকি ১ ফরজ। এই রোজা নিয়ে কত ঝামেলা কেউ কেউ নাকি গোসল করতে গিয়ে গলা ভিজিয়ে ফেলে। রক্ত গড়িয়ে পড়লে রোজা শেষ ! অনেকে বলেন আল্লাহ্‌’র নির্দেশের আবার ছোট বড় কি? যা পালন করতেই হবে তার ভেতরে ছোট বড় করা মানে হলো দুটোর ভেতরে একটির গুরুত্ব কমিয়ে দেয়া। রোজার দিনে সকালে দুপুরে বাড়ীতে প্রায় রান্না হয়না। যা-তা খেতে হয়। রোজার দিন বড়দের মেজাজ থাকে তিরিক্ষি । “রোজা রমজানের দিন” এই তিনটি শব্দের বাক্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় এই সময়।

একটু যখন বড় হলাম দেখলাম না খেয়ে থাকার এই চর্চা বা সাধনা সব ধর্মেই আছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, ইহুদি, তাও, জেন ছাড়াও ছোট বড় সকল সাধনার এটি অংশ। তখন প্রশ্ন জাগে, রোজার উদ্দেশ্য নিয়ে। মুরুব্বীরা বলেন নিরাহার মানুষের কষ্ট অনুভব করার জন্য না খেয়ে থাকা। উত্তর খুব মণঃপুত হয়নি কারণ, রাজকীয় ইফতার, তারপর রাতের খাওয়া আবার সেহরীর বিশাল আয়োজনে মনে হয়না নিরন্ন মানুষদের জন্য রোজাদারগণ খুব ভাবেন।

বড় হয়ে জানলাম রোজা হলো সংযম। বিশাল ভূড়িভোজ, দিনরাত মেজাজ আর রমজান মাসের মাসিক খরচ দেখে কিসের সংযম ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কেউ কেউ বললেন না না রোজা হল ইবাদতের মাস। খেয়ে দেয়ে গায়ে গতরে জোড় বানিয়ে বেশি বেশি ইবাদত করলেই হয়, না খেয়ে থাকতে হবে কেন? অবুঝদের মত কথা !

এসময়ে মেডিটেশন সম্পর্কে আমার জানা শোনার সুযোগ হয়। প্রথমে কিছু বই পড়ি “মেসমারিজম”, “কোয়ান্টাম মেথড” “হিপনোটিজম এন্ড কিওর”, “হিপনোটিজম এন্ড মেন্টাল হেলথ” এই রকম বেশ কিছু বই। এসব বই পড়ে এবং পড়ে বিপাসানা, কোয়ান্টাম মেডিটেশন করে যা জানলাম তা হল, মেডিটেশনের প্রথম পর্ব নিজের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মনকে একাগ্র করা। রবি ঠাকুরের গান আছে না? “মায়াবন বিহারিণী হরিনী…” এই হরিন আসলে মন-হরিন।

পরীক্ষা করার জন্য ঠিক করলাম আমি ২ মিনিট আমার ডান আঙ্গুলের তর্জনীর কথা ভাববো । ১০ থেকে ২০ সেকেন্ডের বেশি পারিনি। মন স্থির থাকেনা, সে পিছনের কোন সুখের স্মৃতি কিংবা দুঃখের স্মৃতি রোমন্থন নিয়ে ব্যাস্ত, অথবা দেখা যাবে ভবিষ্যতের অলীক কল্পনা বা সম্ভাবনা নিয়ে উচাটন।        

একবার ঈদের চাঁদ দেখার পরে ছাদে বাজি পোড়ান হচ্ছিল। সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিল রকেট। লম্বা একটা লাঠির মাথায় একটা রকেট, এর লেজে আগুন দিলে সেটা উড়ে যায়। আমি কি মনে করে ঠিক উড়ে যাওয়ার আগে তার লেজ টেনে ধরলাম। তীব্র বেগে আমার হাতের উপর বারুদের বৃষ্টি ঝলকে উঠলো। আর কি ! পরের দুই দিন বরফের ভেতরে হাত ডুবিয়ে বসে ছিলাম। সমস্ত মনযোগ ঘুম, দিন, রাত, খাওয়া সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হলো হাত।

মেডিটেশন করার সময় একদিন মনে হলো যে মনযোগ আনবার জন্য এত সাধনা সে নিজ থেকেই এসে ধরা দিল? কেন দিল? মনকে অন্যদিকে চালিত করতে পারলে ব্যাথা কম হয়, হতো। পারলাম না-তো !

ক্ষুধার কষ্ট মনকে বাস্তবে রাখতে সাহায্য করে। “সংযম” সাধনা শুধু অতিরিক্ত খাওয়ার সংযম নয়। এই সংযম কথার, চিন্তার, কামের, লিপ্সার, দেখার, শোনার। আর সেজন্য মনকে বাস্তবে রাখা জরুরী।

মনকে বাস্তবে রাখার জন্য ক্ষুধা আমাদের সাহায্য করে। ধর্ম বলে পেটের একভাগ খাদ্য, একভাগ পানি আরেক ভাগ খালি রাখো। রোজার রাতে খাবার নিয়ে হামলে পড়া দেখে তাদের সংযম সাধনা বা তিন ভাগের নিয়ম কোনটাই কাজে লাগে বলে মনে হয়না।

অনেকে বলেন বেশি ঘুমালে রোজা ভাংগে। বেশি টিভি দেখলে রোজা ভাংগে। ঘুম এবং এই ধরনের অতিরিক্ত বিনোদন আমাদের মনকে পালাতে সাহা্য্য করে, মন পালিয়ে যাওয়া মানেই হল বর্তমান থেকে পালিয়ে যাওয়া, সাধনা থেকে পালিয়ে যাওয়া। পালিয়ে যাওয়া মন বাস্তবতাকে মোকাবেলা করার ক্ষমতা অর্জন করেনা।

আরেকটি কথা খুব শুনতাম রক্ত গড়িয়ে পড়া যাবেনা। রক্ত বের হলো মানে রোজা ভেঙ্গে গেল। এখন আমার মনে হয় এই রক্ত আমার শরীরের একফোটা রক্তের কথা নয়, বলা হয়েছে খুন, হত্যা, সহিংসতা, অপ্রয়োজনে পশু, পাখি বা প্রাণী হত্যার কথা। যুদ্ধ এবং হিংস্রতা “সিয়াম” সাধনার সাথে যায়না। ঝগড়া বিবাদ করলে রোজা থাকবেনা কারণ এটি সংযম সাধনার বিপরীত।

মানুষের মনে যত প্রকার “বিকার” আছে তার ভেতরে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, দ্বেষ এবং রাগ। এই রাগ, রাগ বা অনুরাগ দুই-ই হতে পারে। সুতরাং “রোজা রমজানের দিন” বলে তেজ দেখালে আসলে রোজা হয় না। রোজা হতে গেলে মানুষকে বিনয়ের চর্চা করতে হবে।

আমাদের হুজুরগন এই কথাগুলো কি জানেন না? বলতে শুনিনি।                                                                                               

Habizabi

[Roja] Thamizhaa Thamizhaa

Independence day is getting closer, and we could feel the pulse go up. Here is a song that would energize you more – #ThamizhaaThamizhaa from the movie #Roja. 405 more words

Vairamuthu

Alfredo Cáceres: Invitado. Caperucita Roja: Sin Lobo no hay Cuento

(Haz click en la imagen para agrandar)

«Me gusta dibujar cosas medias enigmáticas. Quería evitar usar el rojo pero no me resultó, aunque de todas maneras quería un lobo protagonista: sin lobo no hay cuento». 841 more words

Ilustración