Tags » Gender And Religion

Gordon Wood on Bernard Bailyn: American Religious History and 'An Honest Picture of the Past'

by Kristin Du Mez.

[This piece originally appeared as a guest contribution to Religion in American History. The first portion is republished here with permission of the author. 386 more words

History

মুসলিম সমাজ সংস্কার ও রাজনীতি নিয়ে কিছু যুক্তি তর্ক গল্প

সৌভিক ঘোষাল

সাহিত্যের ছাত্র। মার্ক্সবাদী মতাদর্শে আস্থাশীল। মার্ক্সবাদকে সমকাল ও ভারতীয় প্রেক্ষিতে জানাবোঝা ও প্রয়োগের কাজে যুক্ত। 

[দেশ জুড়ে মাঝে মাঝেই ইউনিভার্সাল সিভিল কোড নিয়ে বিতর্ক ওঠে। বিজেপি যথেষ্ট গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর সেই নিয়ে বিতর্ক আবারো সামনে এসেছে। এই বিতর্কে গণতান্ত্রিক শক্তি বিশেষভাবে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’ বা পারিবারিক আইন ও তার সংস্কারকে কীভাবে দেখতে পারে, তা নিয়ে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে একটি মতামত গঠনের লক্ষ্যে এই লেখাটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত গড়িয়ে গেলো (আমাদের মতে) সংস্কারের প্রধান প্রতিবন্ধক ভোটব্যাঙ্ক পলিটিকস ও অতঃপর তা থেকে একটি র‍্যাডিকাল ডিপারচার এর সম্ভাবনা বিন্দুর দিকে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে লেখাটি অনেকটাই ছড়ানো ছেটানো একটা চেহারা নিল, প্রবন্ধের প্রকৃষ্ট বন্ধন হয়ত তাতে আর তেমন রইলো না। আর একটা কথা। মূল লেখাটির আগে একটু বিধি সম্মত সতর্কীকরণ এর মতোই যেন মনে রাখা দরকার নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে আইন বদলের প্রশ্নটি শুধু মুসলিম পারিবারিক আইন বদলের প্রশ্নের মধ্যেই সীমায়িত নয়। বদল দরকার চরম পুরুষতান্ত্রিক অন্যান্য ধর্ম ভিত্তিক আইনগুলিরও, যেমন হিন্দু পারিবারিক আইন, খ্রীষ্টান পারিবারিক আইন ইত্যাদির। বদলের দরকার ইন্ডিয়ান পিনাল কোডেরও, যেখানে লিঙ্গ সংবেদনশীলতার এখনো যথেষ্ট অভাব আছে। এখনো পর্যন্ত ‘ম্যারিটাল রেপ’ বা বৈবাহিক সম্পর্ক মধ্যবর্তী ধর্ষণ কে আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি, ব্যাভিচার (অ্যাডালটারি) বিষয়ক আইনটিও নারীর অবমাননা সূচক। এই সমস্ত আইনের সংস্কার বিষয়ে নারী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবিগুলিকে পূরণ করা জরুরী, আর এগুলি কোনওভাবেই বিজেপির অ্যাজেন্ডায় পড়ে না, বরং তারা এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত স্থিতাবস্থার পক্ষে ও নারী স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। এখানে লিঙ্গ সংবেদনশীলতার দৃষ্টিকোণে সামগ্রিক আইন সংস্কার প্রক্রিয়ার দাবির অঙ্গ হিসেবেই মুসলিম পারিবারিক আইন এর সংস্কার এর বিষয়টিকে দেখতে হবে, তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে নয়। আর এই সংস্কারে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনও সংস্কার এর পরিবর্তে মুসলিম সমাজ বিশেষত নারীদের মধ্য থেকে উঠে আসা দাবিগুলিকেই গুরূত্ব দিতে হবে। এবার শুরু করা যাক।]

আসগর আলি ইঞ্জিনিয়ার চলে গেছেন এক বছর হল। সারা জীবন তিনি ইসলাম ও আধুনিকতার সম্পর্ক নিয়ে ভেবেছেন, মুসলিম নারীদের অধিকার আন্দোলন নিয়ে লড়াই করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক প্রতিনিধি স্থানীয় মানুষ, যিনি নিষ্ঠা দক্ষতা জ্ঞান ও আন্তরিকতার মিশেলে শেষপর্যন্ত এক শ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিলেন। রাজস্থানের সালুম্বারে এক দাউদি বোহ্‌রা আমিল (যাজক) পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল। বাল্যেই তাঁর পিতা শেখ কুরবান হুসেনের কাছ থেকে তিনি আরবি ভাষা শেখেন। প্রথম জীবনেই তাঁকে কোরানের তফসির (টীকা), তব্‌ইল (সুপ্ত অর্থ), ফিক্‌ (ব্যবহারশাস্ত্র) এবং হাদিস (পয়গম্বরের শিক্ষা ও বাণী)-এর শিক্ষা দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বৃহৎ মুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনে কাজ করেছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ায় তিনি তাঁর চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে নিজের দাউদ বোহ্‌রা সমাজের সংস্কারের কাজে সম্পূর্ণ আত্মনিয়োগ করেন। একই সঙ্গে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন। এই কর্মকাণ্ডের অঙ্গ হিসেবে ১৯৮০ সালে `ইন্সটিট্যুট অব ইসলামিক স্টাডিজ’ এবং ১৯৯৩ সালে `সেন্টার ফর স্টাডি অব সোসাইটি অ্যান্ড সেকুলারিজম্‌’ প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করতেন এবং সমান চোখে দেখতেন। তাঁর লেখা প্রায় পঞ্চাশটি বইয়ে তাঁর এই চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁরই দাউদি বোহ্‌রা সমাজের কট্টরপন্থীদের হাতে তিনি একাধিকবার নিগৃহীত হয়েছেন। তবু জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আসগার আলি ইঞ্জিনিয়ার গোঁড়া ধর্মান্ধদের কাছে কখনো মাথা নোয়াননি। ১৯৯০ সালে কলকাতায় ‘লোকবিদ্যা কেন্দ্র’র এক সভায় আসগার আলি ইঞ্জিনিয়ার ইসলামের সেকুলার তাৎপর্য্য নিয়ে বলেছিলেন। তিনি সেকুলারিজমের ‘ধর্মহীনতা’র অর্থে বিশ্বাস করতেন না। ধর্মের আওতায় থেকেই মুসলিম পার্সোনাল ল কে যুগোপযোগী করার কথা তিনি ভেবেছেন আর তা মুসলিম ধর্মতত্ত্বর তাত্ত্বিক আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই করা সম্ভবপর বলে তাঁর মনে হয়েছে। ভেতর থেকে সংস্কার এর গ্রহণযোগ্য এই পদ্ধতিটি শুধু ইসলামিক সমাজের জন্য নয়, সারা ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কাছেই অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ। ২০১২ সালে মৃত্যুর এক বছর আগে তিনি ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ এর পক্ষ থেকে মুসলিম পার্সোনাল ল এর চেহারা কেমন হতে পারে তার একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া হাজির করেন সংশ্লিষ্ট বহুসংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে।

কেন এই আইন সংগ্রহ প্রয়োজন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই বিভিন্ন সময়ে মুসলিম মহিলারা জানিয়েছেন তারা শরিয়তি আইনের ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে পুরুষদের দ্বারা নানাভাবে শোষিত হয়েছেন। আসগর আলি মনে করেছেন এই ভুল প্রয়োগ সম্ভব হয়েছে শরিয়তি আইনের কোনও সর্বজনমান্য আইনি সার সংগ্রহ রূপে না থাকায়। বিচারে ব্যক্তির নিজস্ব বিচারধারাই সক্রিয় থেকেছে এবং সেখান থেকেই এই সমস্ত ভুলগুলি ব্যাপক আকারে ঘটেছে। ভুলগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে আইন গুলির মৌলিক স্পিরিটটিই এই সমস্ত রায়ে লঙ্ঘিত হয়েছে। সমস্ত মুসলিম প্রধান দেশে তো বটেই, ভালোসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী বাস করেন এমন সমস্ত অ-মুসলিম দেশেও মুসলিম পারিবারিক আইন সুসংবদ্ধ সার সংগ্রহ হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে। পরমাশ্চর্য হলো ভারতে তা নেই এবং এই ব্যতিক্রম এর নিরিখে বিশ্বে ভারতই একম অদ্বিতীয়তম। মনে রাখতে হবে ইন্দোনেশিয়ার পরে ভারতেই সর্বাধিক মুসলিম জনগণের বাস। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এর বিরোধিতাতেই ভারতে এক ব্যতিক্রমী ব্যাপার চলছে এবং মুসলিম মহিলারা নানারকম বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন।

এই আইনি সার সংগ্রহ তৈরির চেষ্টার সঙ্গে যে শরিয়তি আইনকে বদলে ফেলার কোনও সম্পর্ক নেই, সেটাও আসগর আলি স্পষ্ট করেছেন। মুসলিম পারিবারিক আইনের পূর্ণাঙ্গ খসড়াটি হাজির করার আগে তিনি মুসলিম আইনের বিভিন্ন ধারার কথাও তুলেছেন। ইসলামিক আইন যে দেশকাল নিরপেক্ষ হতে পারে না সে বিষয়ে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি এনেছেন ইমাম শাফির ধ্রুপদী দৃষ্টান্ত। শ্রদ্ধেয় এই আইনবেত্তা সেকালে মদিনা থেকে মিশরে গিয়ে তাঁর আইনগত ধারণাবিধিকে অনেকখানি বদলে ভিন্ন দেশের নিজস্ব প্রেক্ষিতের কথা মাথায় রেখে। প্রথম দিকে ইসলামিক আইন বিষয়ে প্রায় শতাধিক ধারা (ইসলামিক স্কুলস অব ল) ছিল, এখনো তার মধ্যে বেশ কয়েকটি ধারাই সক্রিয় ও অনুসৃত হয়, যেমন হানাফি, শাফী, মালিকি, হাম্বলী। ভারতে বেশিরভাগ মুসলিম হানাফি ধারাই অনুসরণ করেন, যদিও কোঙ্কন উপকূল, কেরালা আর তামিলনাড়ুর অনেক মুসলিম অনুররণ করেন শাফি ধারা। এই ভিন্নতার নির্দিষ্ট কারণও রয়েছে। কোঙ্কন, তামিলনাড়ু ও কেরালার মুসলিম সংযোগে রয়েছে সমুদ্রপথ, অন্যদিকে উত্তর ভারতের মুসলিমরা মূলত ইরাক, আফগানিস্থান ভূখণ্ডের সঙ্গে স্থলপথে সংযুক্ত থেকেছেন।

Non-fiction