Tags » Legal Personality

আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে

বাংলাদেশে যতগুলো আত্মনির্ভরকেন্দ্রিক পেশা রয়েছে তার মধ্যে আইন পেশা হল সবার পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। এ পেশায় এসে আপনি যেমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন, তেমনি সমাজে সবার কাছে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবেন। আপনিও পারেন আইন পেশায় এসে সফল ক্যারিয়ার গড়তে। সে জন্য কি কি করতে হবে কোথায় ভর্তি হবে এবং এ পেশায় আর্থিক সুবিধা কি ? এ নিয়ে আলোচনা করছি।

কোথায় কীভাবে শুরু করবেন?

প্রথমে আপনাকে এইচএসসি পাসের পর যে কোনো সরকারি অথবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদে ভর্তি হতে হবে। এখানে আপনাকে চার বছরমেয়াদি এলএলবি অনার্স সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর ও খুলনাসহ যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ব্যতিক্রম এখানে আপনাকে বিষয়ভিত্তিক আইন অনুষদে পরীক্ষা দিতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। আর বাংলাদেশের প্রায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের জন্য এলএলবি অনার্স কোর্স চালু আছে। এখানে পড়তে হলে প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ পড়বে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা। এছাড়া আপনি চার বছর মেয়াদি এলএলবি না করেও আইন পেশায় আসতে পারেন। এ জন্য আপনাকে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজ থেকে অনার্স বা ডিগ্রি পাস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধীনে যে কোনো ল’ কলেজে দু’বছর এলএলবি (পাস) কোর্স করতে হবে। এখানে আপনার খরচ পড়বে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়া যায়। এখানে খরচ পড়বে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।

আপনাকে এলএলবি অনার্স শেষে বার কাউন্সিল সনদ গ্রহণ করে সিএমএম জজকোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের জন্য আলাদা আলাদা বারের সনদ গ্রহণ করতে হবে। সনদ পাওয়ার জন্য প্রথমে বার কাউন্সিলের ফরমে আবেদন করতে হবে। এরপর তিন ধাপে তথা এমসিকিউ। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এলএলবি অনার্স ও এলএলবি (পাস) কোর্সের পর জেএসসি অর্থাৎ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন ও সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষা দিতে পারবেন। এছাড়া আইনজীবী হতে চাইলে এলএলবি বা এলএলবি(অনার্স) অথবা এলএলএম পাশ করেই বাংলাদেশ বার কাউন্সল থেকে সনদপ্রাপ্ত হয়ে যে কোন আইনজীবী সমিতির সদস্য হয়ে সরাসরি আইনজীবী হয়ে যেতে পারেন।

আয়-রোজগার:

আইনজীবী হলে আয়-রোজগারের বিষয়টি অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা, সামাজিক যোগাযোগ ও মামলার ধরনের ওপর নির্ভর করে। এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঈনউদ্দীন ফারুকী জানান, হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মাসিক আয় মামলার ধরন অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। আইন পেশায় সদ্য যোগদানকারী আইনজীবী আবুল কাশেম জানান, একজন নতুন আইনজীবী সাধারণত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করে থাকেন।

আরও চাকরি:

একজন আইনজীবী আইন পেশার পাশাপাশি যে কোনো কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার, যে কোনো ব্যাংকের নিজস্ব আইনজীবী অথবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার আইন উপদেষ্টা হিসেবে চাকরি করতে পারেন। আইন কমিশনেও চাকরির সুযোগ আছে। এখানে আয় ও সম্মান উভয়টি ভালো মানের। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিলরুবা সরমিন জানান, বর্তমানে ব্যাংক, বীমা ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেট ও বিউটি পার্লারসহ ছোট বড় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এতে একজন আইনজীবীর কাজের পরিধি সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাড়ছে আয়ের ক্ষেত্র।

Home

ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য

ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য

কিছু লিখিত-অলিখিত নৈতিকতা সব আইনজীবীরই থাকা উচিত। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী (ডিফেন্স ল ইয়ার) ও সরকারি পক্ষের কেঁৗসুলির (প্রসিকিউটর) জন্য পেশাগত জীবনে অবশ্যপালনীয় নীতিমালা হিসেবে বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপত্তি হয়েছে। কমন ল-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোয় বিদ্যমান বিচারব্যবস্থায় বিভিন্ন বিচারিক নজির, সংবিধি অথবা নিয়ন্ত্রণকারী আইনজীবী সংগঠন (বার কাউন্সিল/অ্যাসোসিয়েশন) কর্তৃক নির্ধারিত/প্রণীত আচরণবিধির মাধ্যমে এসব নীতির উৎপত্তি হয়েছে। এসব নীতি পালনে ব্যর্থতার জন্য অনেক সময় একজন আইনজীবীকে ভর্ৎসনা, বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারে। তাই একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনে এসব নীতি মেনে চলা নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য। 9 more words

Home

জেনে নিন কি কারণে কোন জেলার নামকরণ করা হয়

বাংলাদেশ ৭টি বিভাগে ভাগ করে ৬৪টি জেলা রয়েছে। আর এই ৬৪ জেলার প্রত্যেকটি জেলার নমকরণে রয়েছে ইতিহাস। কোন জেলা কি কারণে নামকরণ করা হয়েছে তা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা। তাই আমাদের এবারের আয়োজন ৬৪ টি জেলার নামকরণের ইতিহাস। পাঠকদের জন্য সংক্ষেপে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হল ৬৪ জেলার নামকরণের ইতিহাস।

Home

জরুরী অবস্থা কখন জারি করা যাবে

জরুরী অবস্থা কখন জারি করা যাবে  এবং এর ফলাফল কি?

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশে যদি কোন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় জান-মালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার সম্ভাবনা থাকে তখনই রাস্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে দেশে জরুরী অবস্থা জারি করতে পারেন।
সংবিধানে জরুরী অবস্থা নিয়ে যে ধারাগুলি আছে, দ্বিতীয় ১৪১ক(৩) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরিণ গোলযোগের দ্বারা বিপদ আসন্ন বলে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হলে প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।
তৃতীয়ত, ১৪১ক(১) উপ-অনুচ্ছেদের শর্ততে বলা হয়েছে যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হলে ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে।সুতরাং প্রকৃতপক্ষে জরুরি অবস্থা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। অবশ্য জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের শর্তটি যোগ করার পেছনে বাস্তব কারণও আছে।
রাষ্টপতি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত ব্যতীত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই প্রতিস্বাক্ষরের বিধান করা হয়েছে।
জরুরি অবস্থার উদ্ভব হয়েছে কিনা কিংবা জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ বা এর কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন কিনা এ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।
কোনো আদালতে তাঁর ষোষণার যর্থাথতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাবে না। আদালত শুধু এইটুকই দেখতে পারবে যে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর নেয়া হয়েছেল কিনা।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা হলে তার ফলাফল:
১. জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর পরবর্তী কোনো ঘোষণার মাধ্যমে রা তা প্রত্যাহার করা যাবে।
২. জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর তা সংসদে উপস্থাপন করতে হবে এবং ঘোষণা ১২০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত না হলে ১২০ দিন পর তার কোনো কার্যকারীতা থাকবে না।
৩. যদি সংসদ ভেঙ্গে যাওয়া অবস্থায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় অথবা ঘোষণার ১২০ দিনের মধ্যে যদি সংসদ ভেংঙ্গ যায় তাহলে সংসদ পুর্নগঠিত হওয়ার পর প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রস্তাবের মাধ্যমে উক্ত ঘোষণা অনুমোদিত না হলে ৩০ দিন পর তার কোনো কার্যকারীতা থাকবে।
৪. জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে সংবিধানের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪২ অনুচ্ছেদ বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো স্থগিত হয়ে যাবে এবং যতদিন জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে ততিদিন ঐ অধিকারগুলো স্থগিত থাকবে।
ফলে, নির্বাহী বিভাগ এসকল মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
আবার সংসদও এ সকল মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি যে কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারবে। জরুরি অবস্থা যখনই প্রত্যাহার করা হবে তখনই উক্ত অধিকারগুলো পুনরুজ্জীবিত হবে।
৫. জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি আদেশ দ্বারা যে কোনো মৌলিক অধিকারের বলবৎকরণের অধিকার স্থগিত করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ১৪১খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে ৬টি মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায়।
ফলে, এদের বলবৎকরণের প্রশ্ন থাকেনা। বাকী থাকে ১২টি মৌলিক অধিকার। জরুরি অবস্থা চলাকালে এ ১২ টি অধিকার বহাল থাকে। তবে ১৪১(গ) অনুযায়ী উক্ত ১২টি অধিকারের যেকোনটির বা সবগুলো বলবৎকরনের অধিকারকে রাষ্ট্রপতি আদেশের মাধ্যমে স্থগিত করে দিতে পারেন।
দেশে এ পর্যন্ত যতোবার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে, প্র্রত্যেকবারই ১২টি অধিকারও স্থগিত করা হয়েছে। কাজেই জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে এমন বিধান করা হয়েছে যাতে সবগুলো মৌলিক অধিকারই স্থগিত করা যায়।

Home

জেনে নিন মোটরযানের দরকারি কিছু আইন

জেনে নিন মোটরযানের দরকারি কিছু আইন

আধুনিক জীবনে যানবাহনের বিকল্প নেই। ঘর থেকে বেরুলেই কমবেশি সবাইকে চড়তে হয় কোনো না কোনো যানে। অথচ আমাদের জীবনের এই জরুরি অনুষঙ্গটি পথেঘাটে প্রায়ই আমাদের উটকো যন্ত্রণা আর আশংকা তৈরি করে। এই তো পুলিশে ধরল, লাইসেন্স নিয়ে ঝামেলা লাগল নতুবা দুম করে পেছন থেকে আপনার গাড়িকে ধাক্কা দিল আরেকটি গাড়ি। এসবের সাথে দুর্ঘটনার ভয় তো থাকেই।

একটু সচেতনতা আর যুগোপযোগী মোটরযান আইনের যথার্থ বাস্তবায়নে বেঁচে যেতে পারে অনেক মূল্যবান প্রাণ। সড়কে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গাড়ির চালক ও মালিকের দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোটরযান আইনের বিভিন্ন বিধান থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে গাড়ির চালকদের বেশির ভাগেরই তেমন কোনো ধারণা থাকে না। ফলে আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মোটরযান আইন করা হয় ১৯৩৯ সালে। এরপর সময়ের প্রয়োজনেই এই আইনের আরো একটি অধ্যাদেশ ১৯৮৩ সালে পাস করা হয়, কাজেই সেটাও যে এখন আদিযুগের; তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে যা হোক, কাগুজে আইনের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ থাক বরং বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপুর্ণ মোটরযান আইন জেনে রাখুন। রাস্তাঘাটে উপকারে আসতে পারে।

আইনে চালকের যোগ্যতা

মোটরযান আইনের বিধান অনুসারে ২০ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তি পেশাদার চালকের আসনে বসতে পারবে না। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

আইনের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স ছাড়া কোনো মোটরযান অথবা যাত্রীবাহী মোটরযান চালালে বা অন্যকে চালনা করতে দিলে সর্বোচ্চ চার মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

চালকের পাশাপাশি সহকারী চালকের জন্যও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। আইন অনুসারে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

গাড়ির শ্রমিক

গাড়িতে চালকের পাশাপাশি এক বা একাধিক শ্রমিক থাকে। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়কারীকে আমরা কন্ডাক্টর বলি। গাড়ির কন্ডাক্টর হতে হলে ১৮ বছর এবং কন্ডাক্টরের লাইসেন্স থাকতে হবে। পঙ্গু বা রোগাক্রান্ত কেউ কন্ডাক্টর হিসেবে গাড়িতে কাজ করতে পারবে না।

নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

মোটরযান আইন অনুযায়ী মোটরযান নিবন্ধন করা অবশ্যই প্রয়োজন। নিবন্ধিত না হয়ে থাকলে এবং নিবন্ধন চিহ্ন যথাযথভাবে গাড়িতে লাগানো না থাকলে ওই মোটরযানে যাত্রী বা মাল পরিবহন বা অপর কোনো স্থানে চালানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন ছাড়া গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে।

নির্ধারিত গতি

রাস্তার পাশে গাড়ির গতিসীমা সংক্রান্ত নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও অনেক চালক তা মানেন না এবং নিজেদের খেয়াল খুশিমতো গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। মোটরযান আইনের ১৪২ নং ধারা অনুসারে, এভাবে দ্রুতগতিতে কোনো মোটরযান চালালে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। শুধু তাই নয়, পরে অনুরূপ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অনধিক এক মাস মেয়াদের জন্য লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।

রাস্তার বিপজ্জনক অবস্থায় যেমন- ঢালু জায়গায় গাড়ি না থামাতে ড্রাইভারদের ওপর দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। গাড়ির চালক বা কন্ডাক্টর চলন্ত গাড়িতে কিংবা বাম্পার বা ছাদে কিংবা ভেতর ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে কোনো ব্যক্তিকে আরোহণ করতে দিতে পারবেন না এবং অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী নিতে পারবেন না।

এই আইনভঙ্গে প্রথমবারের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় এবং পরবর্তী সময়ে একই অপরাধের জন্য সর্বাধিক ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

বাম দিকে চলবে গাড়ি

আইন অনুযায়ী গাড়ির চালক যতখানি সম্ভব রাস্তার বামদিকে নির্ধারিত লেনে গাড়ি চালাবেন এবং বিপরীত দিক থেকে আসা সব যানবাহনকে ডান দিক দিয়ে যেতে দেবেন। চালক যদি কোনো মিছিল কিংবা একদল সৈন্য বা ওই রাস্তায় কার্মরত পুলিশের সম্মুখীন হন কিংবা রাস্তা মেরামতে নিয়োজিত শ্রমিকদের পাশ দিয়ে যান তাহলে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ১৫ মাইলের বেশি করা যাবে না।

চালক এমনভাবে গাড়ি চালাবেন, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দুটি গাড়ি অতিক্রম করার সময় পরস্পরের গায়ে যেন না লাগে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে । স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এলাকা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় চালককে সব দিকে নজর রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিসীমায় গাড়ি চালানো যাবে না।

এ ছাড়া যেসব মোটরযান সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে চালানো যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-

১. নিবন্ধনপত্রে মালামাল বা যাত্রী বোঝাইবিহীন অবস্থায় যে ওজন নির্ধারিত হয়েছে তার চেয়ে অধিক ওজনসম্পন্ন গাড়ি।
২. নিবন্ধনপত্র অনুযায়ী যে ওজন নির্ধারিত হয়েছে তার চেয়ে অধিক ওজনসম্পন্ন গাড়ি।
৩. নিবন্ধনপত্রে এক্সেলের যে সর্বোচ্চ ওজন নির্ধারিত হয়েছে তার চেয়ে অধিক এক্সেল ওজনসম্পন্ন গাড়ি।

যত্রতত্র গাড়ি থামানো

যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো যাবে না বা যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া গাড়ি দাঁড় করালে জরিমানা এবং নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য স্থান থেকে যাত্রী উঠালে জরিমানা দিতে হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ৫০ টাকা এবং সময়সীমা প্রদর্শন না করে গাড়ি চালালে ৩০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

চালককে বাধ্যতামূলক ট্রাফিক সংকেত মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ চাইলে গাড়ির কাগজপত্র দেখাতে চালক বাধ্য থাকবেন। রাস্তায় পথচারী পারাপারের জন্য নির্ধারিত সীমানার ওপর দিয়ে পথচারী পারাপারের সময় চালককে নির্দিষ্ট লাইন বরাবর অবশ্যই গাড়ি থামাতে হবে।

গাড়ির চালককে গাড়ি ডান কিংবা বাম দিকে ফেরাতে বা থামাতে হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত নির

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না

মদ পান করে গাড়ি চালানো যাবে না। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড কিংবা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং দ্বিতীয় ও পরবর্তী সময়ে অনুরূপ অপরাধ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড কিংবা এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। উভয়ক্ষেত্রেই চালকের লাইসেন্স স্থগিত করা হবে।

আরো কিছু বিধিনিষেধ ও সাজা

গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস অথবা রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি ব্যবহার করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা দুই হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন মালিক বা চালক। পরবর্তী সময়ে অনুরূপ অপরাধ করলে সর্বাধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। যেখানে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ সেখানে ওভারটেক করলে চালককে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে

Daily Laws

দেশ ভ্রমণ দলিল পাসপোর্ট এর ধরন

দেশ ভ্রমণ দলিল পাসপোর্ট এর ধরন

আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার কথা এলেই বলতে হয় একটি দলিলের সহায়তায় সবচেয়ে বেশি দেশ ভ্রমণ করার বিষয়টি।এ ক্ষেত্রে জার্মানির নাগরিকদের বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেশ ভ্রমণ করার সুযোগ আছে।একটি পাসপোর্ট দিয়ে জার্মানরা বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও ভূখণ্ডের মধ্যে ১৭৭টি অঞ্চলেই প্রবেশ করতে পারেন। এ জন্য কোনো ভিসা লাগবে না। চলতি বছর প্রকাশিত ভিসা বিধিনিষেধ সূচক (ভিসা রেস্ট্রিকশনস ইনডেক্স) অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।একজন বাংলাদেশী নাগরিক তিন ধরনের পাসপোর্ট করতে পারেন।

সাধারণ পাসপোর্ট (সবুজ কভার)

এই পাসপোর্ট সবচেয়ে সাধারণ ধরনের। বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক ” নিয়মিত ” বা ” পর্যটন ” পাসপোর্ট আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য করতে পারে। যে কোন বয়েসের শিশুদের ভ্রমণ এর জন্যও এই পাসপোর্ট প্রয়োজন কারণ পিতা বা মাতার পাসপোর্ট অধীনে শিশুরা ভ্রমণ করতে পারে না। একটি ” পর্যটন ” বা ” নিয়মিত ” পাসপোর্ট এর সর্বোচ্চ মেয়াদ ৫ বছর।

অফিসিয়াল পাসপোর্ট (ব্লু কভার)

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই ধরনের পাসপোর্ট করা হয়। এই ধরনের পাসপোর্ট ধারীদের কিছু দেশে ভিসা মুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় যা সাধারণ পাসপোর্ট ধারীদের দেওয়া হয় না। অফিসিয়াল চিন্নিত করনের জন্য এই পাসপোর্ট গুলোকে নিল স্ট্যাম্প দ্বারা অভিহিত করা হয়।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল কভার)

এই ধরনের পাসপোর্ট শুধুমাত্র বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে যারা কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্য তাদের সরবরাহ করা হয় । তাদের ছাড়াও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা এই ধরনের পাসপোর্ট করার বিশেষ সুযোগ পায়। এই পাসপোর্ট ধারীদের “সরকারী” পাসপোর্ট ধারীদের চেয়েও বেশি দেশে ভিসা মুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করা হয় । কূটনৈতিক পাসপোর্ট ধারীদের পর্যটন , নিয়মিত বা ” সরকারী ” পাসপোর্ট ধারীদের চাইতে তাই স্বতন্ত্র্র লাল আবরণ দ্বারা চিন্নিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস ও ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকরা কী রকম স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করতে পারেন, অভিবাসনের (ইমিগ্রেশন) লাল ফিতার ঝঞ্ঝাট ছাড়া কীভাবে ঘুরতে পারেন, তা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৬। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ৩৯টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যায়। একই অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে কঙ্গো, লেবানন ও শ্রীলঙ্কা। গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৮। এ হিসাবে দেশটির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

ভিসা ছাড়া ভ্রমণে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান ৮৫। এখান থেকে ৫২টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করার সুযোগ রয়েছে।

জার্মানির পরই রয়েছে সুইডেন। দেশটির নাগরিকরা ভিসা ছাড়া ১৭৬ দেশে প্রবেশ করতে পারেন।

ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান যৌথভাবে তৃতীয়। ২০১৪-১৫ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষ তিনে ছিল। কিন্তু চলতি বছর দেশ দুটি যথাক্রমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে নেমে গেছে।

২০১৪ ও ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে থাকলেও এবার অবনমন ঘটেছে। এ বছর দেশটির অবস্থান চতুর্থ। দেশটির সঙ্গে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস।

তালিকার নিচ থেকে সবচেয়ে খারাপ পাসপোর্টের দেশ আফগানিস্তান। ২৫টি দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারেন দেশটির নাগরিকরা। এর পর রয়েছে পাকিস্তান, ইরাক, সোমালিয়া ও সিরিয়া। পাকিস্তান থেকে ২৯টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ আছে।

অভিবাসন ও নাগরিকত্ব সেবাবিষয়ক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস ব্যাখ্যা করে বলেছে, ভিসার ব্যাপারটি দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার কি না, তার প্রতি নির্দেশ করে। সংস্থাটির একজন প্রতিনিধি সিএনএনকে বলেন, ‘যে মানদণ্ডে একটি দেশ আরেকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা ছাড়া প্রবেশের অনুমতি দেয়, তা নির্ভর করে দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক, ভিসার নিয়ম, নিরাপত্তা ঝুঁকি অথবা ভিসার শর্ত ভেঙে ফেলার ঝুঁকির ওপর।’

সূচকে চীনের কিছুটা উন্নতি হয়েছে, ৯৩ থেকে এখন অবস্থান ৮৭। একই অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। সম্প্রতি চীনা নাগরিকদের জন্য জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াও ঘোষণা দিয়েছে, তারা চীনের পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করবে।

Home

“የድርጅት በቁም መክሰም!”---ሰ/መ/ቁ 100079

የሰ/መ/ቁ 100079 “ን” አንብበን ስናበቃ ለተፈጥሮ ሰው ብቻ የምንጠቀምባቸው የተለመዱ አባባሎች ለህግ ሰውም ሊውሉ የመቻላቸው አጋጣሚ ሊኖር እንደሚችል እንረዳለን፡፡ በውሳኔው ላይ እንደተመለከተው አንድ የህግ ሰውነት ያለው ድርጅት በህጉ አግባብ ሳይፈርስና ህልውናውን ሳያጣ “በቁሙ ሊከስም” ይችላል፡፡ የዚህ አባባል ምንጩ በውሳኔው ላይ ባይገለጽም “በቁም መሞት” ከሚለው ሰውኛ አባባል እንደተቀዳ ያስታውቃል፡፡ አንዳንድ ጊዜ አንዳንድ ሰው ጊዜ ይጥለውና ከሰውነት ተራ ወጥቶ በቁሙ ይሞታል፡፡ አንዳንድ ጊዜ አንዳንድ ድርጅትም ማን እንደሚጥለው ባይታወቅም “ከህጋዊ ሰውነት ተራ ወጥቶ” በቁሙ ይከስማል፡፡ ድርጅት እንዲህ ሰውኛ ባህርይ የሚጋራ ከሆነ መሰል ሰውኛ አባባሎች ለድርጅት የሚውሉበት ጊዜ ሩቅ አይሆንም፡፡ ለምሳሌ…ለሕጋዊ ሰውነት መድሀኒቱ ሕጋዊ ሰውነት ነው!

Articles