Tags » Press Club

See: The Bombpops. The Fuck Off And Dies. HotBods. Danger Inc.

The Bombpops, The Fuck Off And Dies, HotBods and Danger Inc. to the Press Club in Sacramento CA.  Thanks Punch and Pie for bringing rad shows to Sacramento!   320 more words

Music

EXTENDED DEADLINE: Woman's Press Club offering multiple $500 scholarships

The Woman’s Press Club of Indiana is awarding three $500 scholarships to Indiana journalism students and professionals this spring.

Click here or on the photo to view full scholarship details and contest rules. 11 more words

🖌 চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে হামলা সাংবাদিক লাঞ্ছিত | 'এই সংগঠনের কর্মীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে যেভাবে হামলা করেছে, তা স্মরণকালের ইতিহাসে নেই।' - কলিম সরোওয়ার

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেছে ‘ঐক্যবদ্ধ সচেতন হিন্দু সমাজ’ নামে একটি সংগঠনের কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসক্লাব ভবনের প্রধান ফটক এবং সামনের সড়ক অবরুদ্ধ করে মানববন্ধন করছিল তারা। এসময় সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাব ফটক ও সড়ক বন্ধ না করার অনুরোধ করলে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা শুরু করে। হামলাকারীরা সাংবাদিকের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এছাড়া সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলে। হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে কোতোয়ালী থানার এসআই বিকাশ চন্দ্র শীলও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুর বারোটায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। এদিকে প্রেস ক্লাবে হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। তারা হলো অজয় দত্ত (২০), নয়ন সরকার (২১), পিয়াল শর্মা (২০) ও অনুভব মজুমদার (২১)।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ আজাদীকে বলেন, ধৃত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত আছে সেটা বের করার চেষ্টা করছি। হামলায় কারো ইন্ধন আছে কিনা কিংবা তাদের মোটিভ কী ছিল, সেটাও আমরা খতিয়ে দেখব।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার দৈনিক আজাদীকে বলেন, সংখ্যালঘুদের দাবি–দাওয়া নিয়ে আমরা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষসহ সাংবাদিক সমাজ সবসময়ই সংবেদনশীল। কিন্তু এসব দাবিতে সমবেত হওয়া একটি সংগঠনের কর্মীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে যেভাবে হামলা করেছে, তা স্মরণকালের ইতিহাসে নেই। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম রাস্তা থেকে প্রেসক্লাবে ইট–পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা চালায়। কিন্তু তারাও প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢোকার সাহস পায়নি। আমরা এই ঘৃণ্য হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, হামলাকারী যুবকরা রাস্তা থেকে প্রেসক্লাবের দোতলায় উঠে আসে। আমি এবং বাংলানিউজের ব্যুরো প্রধান তপন চক্রবর্তী বারবার তাদের থামতে বললেও তারা আমাদের সঙ্গেও উদ্ধত আচরণ করে। তারা সাংবাদিক উজ্জ্বল ধর এবং রমেন দাশগুপ্তকে দেখিয়ে তাদের প্রেসক্লাব থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চিৎকার করতে থাকে। এসময় তারা এই দুই সাংবাদিককে পেটানোর হুমকি দেয়।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী আজাদীকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয়। জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ‘ঐক্যবদ্ধ সচেতন হিন্দু সমাজ’ নামে একটি সংগঠনের ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশ করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলোকচিত্রী হেলাল সিকদার জানান, বিকাল থেকেই প্রেসক্লাব চত্বরে হিন্দুদের মঠ–মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করছিল একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে জড়ো হওয়া লোকজন প্রেসক্লাবের মূল ফটক ঘিরে এবং সড়কের মাঝখানে দাঁড়ানোর কারণে গাড়ি চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এসময় সেখানে আটকা পড়ে একুশে টেলিভিশনের গাড়ি। গাড়িতে ছিলেন একুশে টেলিভিশনের আবাসিক সম্পাদক রফিকুল বাহার এবং সময় টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান কমল দে। দুই সাংবাদিক গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত পুলিশের কাছে সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িটি পার করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পুলিশকে অনুরোধ জানানোর সময় ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক এসে গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করে। অকথ্য ভাষায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করে। গাড়িতে লাথি মারে এবং কয়েকজন যুবক জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে গাড়িটিতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। সাংবাদিক রফিকুল বাহার এসময় হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে অকারণে ক্ষিপ্ত যুবকদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তারা ওইসময় মোবাইল ফোনে গাড়ির নম্বর প্লেট এবং সাংবাদিকের ছবি তুলতে থাকে।

পরে পুলিশ গাড়িটিকে সরিয়ে নিলে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে এসব যুবক প্রেসক্লাবের প্রধান ফটক ভাঙার চেষ্টা করলে আলোকচিত্র সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপরও হামলা চালায়। সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবের দোতলায় উঠে গেলে হামলাকারী যুবকরা দৌড়ে এসে সেখানেও হামলা এবং ভাঙচুর চালায়।

এরপর তারা আলোকচিত্র সাংবাদিক বাংলানিউজের উজ্জল ধর, ডেইলি স্টারের অনুরুপ টিটু ও সুপ্রভাত বাংলাদেশের হেলাল উদ্দিন সিকদার এবং বাংলানিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রমেন দাশগুপ্তকে লাঞ্ছিত করে। প্রেসক্লাবের তিনতলা থেকে এটিএন নিউজের ক্যামেরাম্যান নয়ন চক্রবর্তী আলোকচিত্র ধারণের সময় তাকে লক্ষ্য করে ইট–পাটকেল নিক্ষেপ করে।

প্রেসক্লাবের কার্যালয় থেকে সভাপতি কলিম সরওয়ারসহ সিনিয়র সাংবাদিক নেতারা এসে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারী যুবকরা প্রেসক্লাব সভাপতির ওপরও হামলার চেষ্টা করে।

এছাড়া প্রেসক্লাবে উপস্থিত গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান, উদীচীর সহ–সভাপতি সুনীল ধর, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান এবং বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপংকর দাশ তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তাদেরও লাঞ্ছিত করে হামলাকারীরা।

পরে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে নগর পুলিশের উপ–কমিশনারের (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের ধাওয়া দেয়। এসময় চারজনকে আটক করা হয়।

নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন আজাদীকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। হামলায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।

হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হামলায় জড়িত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।