Tags » Shaheen

Bears Fantasy Projections

It’s that time of year again. Here is a rundown of how the Monsters of the Midway will do this year for fantasy owners:

Quarterback: 1,076 more words

Glennon

Intuitive Tarot Readings at Night Bazaar

Tonight (7/15) I will be at the amazing Handzy Shop + Studio on 15 W. Pike Street Covington, Ky.  doing readings for the Summer Night Bazaar! 47 more words

Tarot

Shaheen Air International Welcomes its Fifth Airbus A319

The new aircraft further enhances comfort for passengers and takes Shaheen’s standard of hospitality to a whole new level

Karachi – June 17, 2017: Cementing the commitment of offering the best service to passengers further, Shaheen Air International (SAI) has welcomed a fifth Airbus A319 to its fleet. 249 more words

PR

বিজ্ঞান প্রসারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা, বিজ্ঞান ক্লাব

আকাশপথে যারা স্বপ্ন বুননে ব্যাস্ত তাদের মাঝেই যেন আরেক স্বপ্নের দুর্গ গড়ায় নিমগ্ন কিছু শিক্ষার্থী। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতেই চোখে পরে এক সবুজ মাঠের পাশে বিজ্ঞানচর্চায় স্বপ্ন কারিগড়দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- বিএএফ শাহীন কলেজ। এখানেই কিছু শিক্ষার্থীর একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে বিএএফ শাহীন কলেজ বিজ্ঞান ক্লাব। ১৯৯৪ সালে এই কলেজের মাঠে প্রথম আয়োজন করা হয় বিজ্ঞান মেলা। তবে বিজ্ঞান চর্চার কামানের বারুদ যেন সেবারও নিভে গিয়েছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে। ২০১০ সাল থেকেই হাল বদলাতে শুরু করে এখানকার শিক্ষার্থীদের। একটু একটু করে নিজেদের উদ্যোগেই বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলাতে অংশগ্রহণ করতে শুরু করে তারা। তাদের বিজ্ঞানচর্চার এই আগ্রহ দেখে কলেজটির গণিত বিভাগের শিক্ষক জাহিদ হোসেন আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শুরু করেন শাহীন কলেজ বিজ্ঞান ক্লাব। এরপরে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। বিজ্ঞান চর্চা তাদের সামনে খুলে দিয়েছে স্বপ্ন গড়ার এক নতুন দুয়ার।

বিজ্ঞান চর্চা করতে আগ্রহী মানুষ আমাদের চারপাশে নেহাৎ কম নয়। তবে নিজে একা একা বিজ্ঞান চর্চা করলে যে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব। তাই এই ক্লাবের সদস্যরা চেষ্টা করে সকলের মাঝে তাদের বিজ্ঞান চর্চার জ্ঞানকে ছড়িয়ে দিতে। সপ্তাহে চারদিন ক্লাসের পর কিংবা টিফিন বিরতির মাঝে ক্লাব সদস্যরা মিলিত হয় বিজ্ঞান ক্লাবে। নানা রকম বিষয়ে জমে ওঠে তাদের আড্ডা। এরই মাঝে ক্লাবের বড়রা ছোটদেরকে বুঝিয়ে দেন বিজ্ঞানের টুকিটাকি বিষয়। ছোটরা কেউ কোন কাজে আটকে গেলেই সমাধানের পথ বাতলে দিতে তাদের পাশে থাকে ক্লাবের প্রাক্তন সদস্যরা। নির্ভরতার এই সেতুবন্ধনে তাদের মাঝে গড়ে উঠেছে এক নিবিড় সম্পর্ক। শ্রদ্ধা আর ভালবাসার মেলবন্ধনে প্রায়ই তাদের মাঝে জমে ওঠে বিজ্ঞান আসর। এছাড়াও মাসে একবার আয়োজন করা হয় ক্লাব সভা। যেখানে প্রাক্তন সদস্য, কলেজের শিক্ষক সহ বাইরে থেকে প্রশিক্ষক এনেও শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিবছর কলেজের ভিতরে বিজ্ঞান মেলার আয়োজনের পাশাপাশি গত বছর থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় পর্যায়ের আন্তকলেজ বিজ্ঞান মেলা। তাই সারা বছর ব্যাপি এখানকার শিক্ষার্থীরা ব্যাস্ত থাকে নানা আয়োজনে।

মৌলিক বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ক্লাবটির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্লাবটির সভাপতি ইনজামুল হক জামিল বলেন, আমরা নিয়মিত চেষ্টা করছি ক্লাবের কার্যক্রম বাড়াতে। শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ্য বইয়ের গদবাঁধা বিজ্ঞানের জগৎ থেকে বের করে এনে তাদেরকে মৌলিক বিজ্ঞানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই আমরা। এরই ধারাবাহিক অংশ হিসাবে নিয়মিত ক্লাবের সদস্যদের সাথে নতুন নতুন বিজ্ঞান আবিষ্কার নিয়ে আলোচনা করে ক্লাবের সিনিয়র সদস্যরা। সদস্যদের মাঝে তারা ছড়িয়ে দিতে চায় বিজ্ঞানের অপার সৌন্দর্য।

ক্লাবটির চার বছর বয়স হলেও এখানকার শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে সব চোখ ধাধানো উদ্ভাবন। কলেজ পর্যায়ে পড়াশোনা করা এসব শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে কন্ঠস্বর নিয়ন্ত্রিত রোবট, রাডারের উন্নত মডেল সহ আরও নানা রকম প্রযুক্তি। মৌলিক বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি এসব প্রযুক্তি নিয়েও বিপুল আগ্রহ এখানকার শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়ে ক্লাবটির বিজ্ঞান প্রকল্প বিভাগের ব্যবস্থাপক নাফিজ আহমেদ বলছিলেন, আমরা চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন বিজ্ঞানের মৌলিক ও প্রায়োগিক দিক সম্পর্কে জানাতে। কারণ এখন আর শুধু জ্ঞান সম্পদ নয়। বরং তা সকলের মাছে ছড়িয়ে দিলেই সম্পদে পরিণত হবে।

ক্লাবের কাজের কারণে পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ক্লাবের কুইজ বিভাগের ব্যাস্থাপক রাশিক আলম জানান যে এটা সম্পূর্ণভাবে একজন শিক্ষার্থীর দ্বায়িত্বের উপর নির্ভর করে। সে যদি নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি ক্লাবের কাজ করে তাহলে পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ বিজ্ঞান ক্লাবটির যাবতীয় কাজ হয় বিজ্ঞান নিয়েই।

ক্লাবটির মডারেটর পদের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কলেজটির রসায়নের শিক্ষক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের মেধা খাটিয়ে বিজ্ঞান চর্চা করতে আসে। আমরা অনেক সময় শিক্ষার্থীদেরকে তাদের ভাল প্রকল্পের জন্য আর্থিক সাহায্য দিতে পারিনা। কিন্তু তারা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি আরও বেশি পরিশ্রম করে এই বিজ্ঞান ক্লাবের মুল লক্ষ্যকে সফল করার জন্য।

ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্লাবটির কো-মডারেটর কুরছীয়া জেবীন বলেন, আগামীর পৃথিবী হবে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এক আধুনিক পৃথিবী। আমি আশা করি এমন এক নতুন পৃথিবীর নেতৃত্ব দিক আমাদের বিজ্ঞান ক্লাবের শিক্ষার্থীরা।

মাত্র এই চার বছরেই ক্লাবটির সদস্যদের হাতে উঠে এসেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক পুরস্কার। দেশের নানা প্রান্তে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় তারা পেয়েছে বিভিন্ন সম্মাননা। তাই নিজেদের বিজ্ঞানচর্চাকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর তারা। ভবিষ্যতের বিজ্ঞানদুনিয়ার স্বপ্নে বিভোর এই ক্লাবের সদস্যরা। আগামীর পরিবর্তন যেন তাদের হাত ধরেই আসার অপেক্ষায়।

মুল  প্রকাশ: ‘বিজ্ঞানচিন্তা’, এপ্রিল সংখ্যা, ২০১৭

Journalisms