Tags » Soldiering

তিন টি হ্যান্ড গ্রেনেড হারিয়ে গেল - Three Hand Grenades lost

তিন টি হ্যান্ড গ্রেনেড হারিয়ে গেল ; আমার উপর পড়লো সব দোষ ;

মে মাসের শেষ সপ্তাহ ১৯৮৫-সকাল ৩- ৩৫ বাজে আমার হাতের ফেভার ল’ভা ঘড়িতে – খুব ই প্রিয় ছিল ঐ ঘড়িটা ১৯৭৪ সালে বাবা ওটা কিনে দিয়েছিল আমাকে দরসনা থেকে । ঘড়িটা তে সময় দেখে হাঁটতে শুরু করলাম আমার অফিসার মেসের দিকে এম পি চেক পোস্ট অতিক্রম করছি তখন ডিউটি রত এম পি স্যালুট দিয়ে অত্যন্ত নম্রতার সাথে জিজ্ঞেস করলো- আমি ১৪ ইস্ট বেঙ্গলের কি না ?
সারা রাত ই কোচে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এসেছিলাম – বাস থেকে নেমেও আধো আধো নিদ্রিত অবস্থায়ই হেঁটে হেঁটে রুমে যেয়ে আবার ঘুমাবার ইচ্ছায় দ্রুত হাঁটার জন্য মনে মনে তৈরি ।
ঠিক ঐ সময়ই গার্ড রুম থেকে বেরিয়ে আসলো একজন এম পি হাবিলদার । বলল আমাকে, স্যার আপানাকে আমার সাথে আপনার ইউনিট যে যেতে হবে । ওটা নাকি এরিয়া হেইচ কিউ এর আদেশ – ১৪ বেঙ্গলের যেই আসুক না কেন ছুটি বা বাইরে থেকে তাকে সোজা ইউনিটে রিপোর্ট করতে হবে । এম পি বলল ওদের গাড়িতে করে আমাকে নামিয়ে দিয়ে আসবে – আমি তা প্রত্যাখ্যান করে হেঁটে হেঁটেই উইনিটে যেতে পারব বলে রওনা হলাম ১৪ বেঙ্গলের অভিমুখে ।
প্রায় বিশ মিনিটের পথ – ওয়াক ম্যানে বাফলো সোলজার – বব মারলির গান টা শুনতে শুনতে পৌঁছে গেলাম আমার পল্টনে –
সেই কবি নজরুলের ঢাকা প্রথম মহাযুদ্ধের বাঙ্গালী পল্টন মত আমার পল্টন নাম তার ফেরশাস ফরটিন এ – ।
শাদা পোশাকে হাঁতে ওয়াকি টকি হাতে লোকজন, প্রশিক্ষন মাঠের দিককার প্রবেশ পথেই দেখলাম ঐ সব নতুন অতিথি দের কে । আমাকে দেখে সরে দাঁড়ালো একজন বয়স্ক লোক – পরিচয় দিলো এফ আই ইউ এর সদস্য বলে । জিজ্ঞেস করলো আমার পরিচয় ।
উত্তর দেওয়ার পর বলল স্যার আপনি দয়া করতঃ অফিসে ডিউটি বাবুর নিকট যেয়ে সব শুন বার রিকোয়েস্ট করলো ।
কিছুই বুঝতে পারলছিলাম না । ঘুমে একে তো অপ্রকিতস্থ তার পর অনেক দুর হেঁটে হেঁটে আসে ক্লান্ত এবং বেশ ক্ষুধার্ত ও অনুভব কর ছিলাম ততক্ষণে ।
চিন্তা করতে লাগলাম এইটা আবার কি ঝামেলা !!?
অফিসে ঢুকেই দেখলাম টু আই সি, এডজুটেনট, কোয়াটার মাসটার সবার অফিসে বিছানা সহ মসরদানি টাঙ্গানো এবং সবাই মনে হল যার যার অফিসেই ঘুমাচ্ছে …।
বুঝলাম ঝক্কি টা আমার একার নয় শুধু । মনে মনে নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম আচ্ছা ছি ও কি ঘুম্মাছেন ওনার চেম্বারে ?
কোনায় দেখলাম দাঁড়িয়ে প্রহরারতঃ এক সৈনিক -সে আমাকে দেখে এগিয়ে এসে বলল – স্যার, রাফিক বাবু আজকের ডিউটি ক্লার্ক । হেঁটে হেঁটে প্রবেশ করলাম টি রুমে – দেখি ওখানেও মসরদানি আর নাক ডেকে মন হল ( সাইজ টা দেখে ) ক্যাপ্টেন বরকত ঘুমাচ্ছেন ।
খালি সোফা টা বসে বললাম রফিক বাবু কে সালাম দিবার জন্য – আমাকে বলার জন্য কি হয়েছে পল্টনে । অন্ধকারেই বসে থাকলাম রফিকের অপেক্ষায় উনার ঘুম ভাঙ্গালাম না বিজলী বাতি জ্বালিয়ে ।
ইতোমধ্যে রফিক এসে হাজির চোখে ঘুম – আস্তে আস্তে বলল – যে রেজিমেন্টের ৩ টা হ্যান্ড গ্রেনেড হারিয়ে গেছে – তাই পুরা ইউনিট ঘেরাও করে রেখেছে জিওশি’র আদেশে যতক্ষণ ঐ ৩ টা গ্রেনেড সার্চ করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত পুরা রেজিমেন্ট ক্লোজ এরেস্ট এর মত এক ধরনের বন্দী ।
শুনে তো চোখ আমার চরক গাছে – আমি আবার মাত্র ১০ – ১১ দিন আগে পল্টনের কোয়াটার মাস্টার হিশেবে দায়িত্ব নেবার আদেশ পেয়েছিলাম – আমার পূর্ববর্তী কিউ এম এক – দেড় মাস যাবত হসপিটালে ভর্তি – অসুখ ওনার মেজর হিশেবে তিনি কোয়াটার মাস্টার – অত্যন্ত কামিয়াভ কর্মঠ নিষ্ঠাবান ফিল্ড অফিসার সে ।
উনি হসপিটালে আর আমি গেলাম ৫ দিনের কেজুয়াল ছুটিতে তাই কিউ এম দায়িত্ব বুঝে নিতে পারি নাই – ছুটিতে যাবার আগে ৩ দিন কোয়াটার মাস্টার এর কেদারায় বসেছিলাম মাত্র ।
হটাত মনে হল – ঘটনা টা কোন প্রকার কাকতালিও না ।
রফিক বলল স্যার আপনার জন্য ডেল্টা কোম্পানির ব্যারাকে বিস্তারা লাগানো আছে । রানার ইতিমধ্যে চোখ কচলাতে কচলাতে এসে চেক মেরে দাঁড়িয়ে থাকল – রফিক বলল স্যার কে নিয়ে দেখিয়ে দিতে রানার কে ……………।
ঘুমে চোখ বুজু বুজু আমার – রানার কে একটা কথাও না জিজ্ঞেস করে সিঁড়ি বেয়ে ৩ তলায় উঠে – রানারের দেখান বিছানায় শু টা খুলেই শুয়ে পরলাম ।
বিষয় টার গুরুত্ব তা খুব একটা অনুধাবন করতে পারছিলাম না জানি কেন ।
এইটুকুই বুঝলাম যে, আমার ভাগ্য টা সুপ্রসন্ন নয় ……..

সকালে সেই কাকডাকা ভোরে সব জাওয়ান রা উঠে যাওয়াতে আমি ঘণ্টা দুয়েক ঘুমাতে পেড়েছিলাম মনে হয়।
বাংলাদেশের সবচে’ সেরা সংস্থা মনে হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী – এর ব্যাপ্তি ও এর কার্যকলাপ কেউ যদি ঐ সংস্থায় চাকরী না করে তা হলে সাত জনমেও উপলব্ধি করতে পাড়বে না ঐ বাহিনী টার কার্যকলাপ, কোড়ডীণেশোণ, প্লান, প্রোগ্রাম এবং এর নিত্য দিনের কর্মপ্রণালী ।
আমি ঢাকায় ঐদিন সকালে আমার ওণ প্যারেড হবার কথা – ঐসব ওড়া চিন্তা করে রেখেছে আমি এসেই কোন ব্যারাকের কোন রুমে ঘূমাবো এবং সকালে পিটি ও অফিস করবো – সব কর্মকাণ্ডের পোশাক এবং আমার ব্যাট মানের কাছ সব এনে রেডি – আমি কোণ কোম্পানিতে আসে আট্টাচ হবো – কোনটা আমার বেড, বেল্ট, টুপী, ঝোলা, পীট্টূ, পিটির পোষাক, গেমসের কাপড় সব আমার অজান্তে আমি আসবো কই আসবোনা তা পুরাপুরি না জেনেই সব বন্দবস্ত করা সারা।
পিটি হাল্কা – আড় ডবলু আড় জাতীয় – । আমার পছন্দের পিটি – । সব অফিসার দের পেলাম আমার দাঁড়াবার কোন খানা জানা নাই কারো – আমার কোন কোম্পানি নাই, ব্যাটালিয়ন এর কোন আপ্পোণ্মেণ্ট ও নেই – তাই উজিরে খামোখার মত আজ জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলাম মনমত ।
সবাই গম্ভীর ছি ও শুধু একটা মুচকি হাসি দিলো আড় তাড় স্বভাব সুলভ বাম চোখ টা মাড়ল ছোট্ট করে ।
কাঊকে আর জিজ্ঞেস করলাম না । ৮-১০ ঘটিকায় মীটিং সকল কে যেতে বলা হল – সরবো সাকুল্যে আমরা ছি ও ছারা ৯ জন কর্মকর্তা । বাকী যারা বাইরে কোর্স ক্যাডারে ওঁদের কপাল কই ভালো ।
ঘেরাও করা অবস্থায় পল্টন চতুর্দিক থেকে । মিটিং বুঝলাম কি হয়েছে আসলে – সার্চ শুরু হোল মিটিং শেষ হবার পর মুহূর্তে থেকে চলল রাত দিন সার্চ পরবর্তী তিন দিন ।
আগন্তক উচ্চপদস্থ কর্ম কর্তাদের আগমন চলতেই থাকলো – কেউ আমাদের সাথে কথা বলে না – হাসেও না – শুধুই না পারতে সালাম তা নেয় – খুবই লজ্জা লাগলো ।
তি রুমে আড্ডা সারাদিন – চিট সই করাতে করাতে মেসওয়েটআর ভীষণ বেস্ত ।
তড়িঘড়ি করে সেই তথাকথিত কোর্ট অব ইঙ্কুয়ারি – হাইরে আমার কপাল – ভীষণ সিরিয়াস
ঝানু ঝানু অফিসার সব – যেভাবেই হউক কেঁচো খুঁড়ে খুঁড়ে শাপ কে বের করেই আনবেন ওনারা ।
আজগুবিভাবে একটা ম্যাগাজিন থেকে জমা দেবার সময় তিন টা গ্রেনেড কেমনে হারিয়ে যেতে পারে তা আমার মাথায় আসল না ।
একা একা বসে বসে ভাবছিলাম – আর কাকে জানি বললাম, ঈশ এটা যদি ১৯৭২ – ১৯৭৩ হত তাহলে যে কোন সময় এক দেড় ডজন গ্রেনেড পয়দা করা আমার জন্য কোন ব্যাপার ছিল না । আমাদের সিলেটের বাসায় রুমে রুমে এস এল আর বা এস এম ছি পরে থাকতো – বেল্ট কে বেল্ট গুলি, শট গান, পয়েন্ট ২২ এগুলো কোন ব্যাপার ই ছিল না ; খাদিম নগরের বড় পুকুরে গ্রেনেড মেড়ে মুক্তি বাহিনী রা কত মাছ মারত – এগুলো কোন ব্যাপার ছিল ই না আমাদের জন্য তখন । আর আজকে সামান্য মাত্র তিন টা ৩৬ হেইচ ই হ্যান্ড গ্রেনেড নিয়ে এতো বড় তাণ্ডব লীলা ? তার পরই ভাবলাম এটা একটি নিয়মিত বাহিনী – চুন থেকে পান খসে পরলে লঙ্কা কাণ্ড হয়ে যাওয়ার কথা আর এটা বিশাল তিন খানা গ্রেনেড খুঁজে পাওয়া যাবে না এটা অসম্ভব ।
ইঙ্কুয়ারি শেষ – কোথাও কোন হদিস ই মিলল না ওগুলোর । আমাকে প্রশ্ন করার কায়দা শুনেই বুঝলাম দোষ কার উপর বর্তাবে ।
অথচ আমার উত্তরসূরিকে একটা প্রশ্ন ও করা হয় নাই – বার বার বললাম যে, আমি এখন ও কোয়ার্টার মাস্টার এর চার্জ অফিসিয়ালি বুঝে নেই নাই কারণ আমার পূর্ববর্তী কোয়ার্টার মাস্টার আমাকে চার্জ বুঝিয়ে দিতে সি এম হেইচ থেকে আসেন নাই – তাই যদিও আমার নামে পার্ট ওয়ান অর্ডার প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু চার্জ বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত গ্রেনেড কম বা বেশি হওয়ার জন্য আমাকে দায়ী করা যায় না ।
সই কোর্টে বলল এক দিস্তা কাগজে – ।
মুখে কর্কশ ভাব, তির্যক চাহনি – চুরি চোখে ড্রেসিং রাখার মত দৃষ্টি বিনিময় -। সই তো করা হোল না । করাতেও পারল না । করবো না – এক বারই বলেছিলাম ।
আজ মনে পরছে সেই বিকেলের কোথা – কিভাবে উদর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হয়ে থাকে আমাদের সবার পরম শ্রদ্ধেয় সংস্থায় ।
কয় দিন পর একটা চিরকুট পেলাম আমার চার্লি কোম্পানির অফিসে – লেখা ছিল
” স্যার, আপনি কি জানেন যে আমাদের পল্টনের কোন গ্রেনেড হারায় নাই ? ”
অতঃপর এক দি প্রহরে শুনলাম অভয় বাণী গুলো… একাগ্রে গুরুগম্ভীর কণ্ঠে …
বি এ ডটডট ডট ডট …………………………।
ডু ইউ প্লিদ গিলটি ?
”নো স্যার ”
তারপর আর কোনদিন ঐ সামারি বিচার এর কোথা শুনি নাই । সর্ব শ্রেষ্ঠও হয়েও সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার কর্মে দুর্বল অনুমেয় ।
বাকিটা; ওরা বলে না ইংরেজিতে , রেস্ট ইজ হিস্ট্রি ……

GOD AND COUNTRY

A soldier’s first duty is to obey orders and he does it truthfully with all his heart, mind, soul and strength. A good and dutiful soldier never ever entertains the idea of betraying his country as it is tantamount to betraying his Creator. 162 more words

GOD AND COUNTRY

How Many Times do I have to Tell You?

“How many times do I have to tell you?”

I’ve said it to my children.  “How many times do I have to tell you to rinse out your dish and put it in the dishwasher?”  “How many times do I have to tell you to hang up your wet towel?” “How many times do I have to tell you to call me when you get there?” 907 more words