Tags » Sri Krishna

পালটে যাবে... (৩০ অগস্ট, ২০১৬)

সকাল থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দুই বিজ্ঞানী। যে অদ্ভুত, আশ্চর্য আবিষ্কারের নেশায় গত সহস্রাধিক বছর ধরে একাগ্রচিত্তে কাজ করে চলেছেন তাঁরা তিন মূর্তি, কিন্তু পারছেন না কিছুতেই শেষ অঙ্কটুকু মেলাতে, অবশেষে আজ মিলতে পারে তার উত্তর। অন্তত ড.

লেখা

অহৈতুকী সেবাপরায়ণ শুদ্ধভক্তরা ভগবানের নাম-রূপ-লীলা-মহিমা অবগত হতে পারেন

“যাঁরা দুরন্তবীর্য রথচক্রধারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মে অনুকূলভাবে অহৈতুকী এবং অপ্রতিহতা সেবাপরায়ণ, তাঁরাই কেবল জগতের সৃষ্টিকর্তার পূর্ণ মহিমা, শক্তি এবং দিব্য ভাব সম্বন্ধে অবগত হতে পারেন।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৩.৩৮)

শুদ্ধ ভক্তরাই কেবল পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত নাম, রূপ এবং কার্যকলাপ সম্বন্ধে অবগত হতে পারেন। কেননা তাঁরা সম্পূর্নরূপে সকাম কর্মের ফল এবং মনোধর্মপ্রসূত জ্ঞানের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছেন। শুদ্ধ ভক্তরা পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি তাঁদের অনন্য ভক্তির বিনিময়ে কোন রকম ব্যক্তিগত লাভের আকাঙ্ক্ষা করেন না। তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সব রকম আকাঙ্ক্ষা রহিত হয়ে নিরন্তর ভগবানের সেবা করেন। ভগবানের সৃষ্টিতে সকলেই প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে ভগবানের সেবা করছেন। ভগবানের এই আইন থেকে কেউই রেহাই পায় না। যারা ভগবানের মায়া-শক্তির প্রভাবে বাধ্য হয়ে পরোক্ষভাবে ভগবানের সেবা করছেন, তাদের সেই সেবা প্রতিকূল-ভাবাপন্ন। কিন্তু যাঁরা ভগবানের প্রিয় প্রতিনিধির আনুগত্যে সরাসরিভাবে ভগবানের সেবা করছেন, তাঁদের সেই সেবা অনুকূল ভাবযুক্ত। এই ধরনের অনুকূল সেবকেরা হচ্ছেন ভগবানের ভক্ত, এবং ভগবানের কৃপার প্রভাবে তাঁরা রহস্যাবৃত ভগবদ্ধামে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু মনোধর্মীরা সর্বদাই অজ্ঞান-অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান নিজেই বলেছেন যে, তিনি তাঁর শুদ্ধ ভক্তদের এগিয়ে যেতে পথ প্রদর্শন করেন, কেননা তাঁরা স্বতঃস্ফূর্ত প্রেমে ভগবানের সেবায় যুক্ত। সেটিই হচ্ছে ভগবদ্ধামে প্রবেশ করার একমাত্র উপায়। সকাম কর্ম এবং মনোধর্মপ্রসূত জল্পনা-কল্পনা এখানে প্রবেশের যোগ্যতা নয়।

Krishna

ভগবানের নাম, রূপ, লীলা - কল্পনাতীত, অব্যক্ত

“নটবৎ অভিনয়পরায়ণ পরমেশ্বর ভগবানের নাম, রূপ এবং লীলাবিলাসের অপ্রাকৃত স্বভাব বিকৃত মনোভাবাপন্ন মূর্খ মানুষেরা জানতে পারে না। তারা তাদের জল্পনা-কল্পনায় অথবা বাক্যের মাধ্যমে তা ব্যক্ত করতে পারে না। ” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৩.৩৭)

পরম সত্য পরমেশ্বর ভগবানের দিব্য প্রকৃতির বর্ণনা কেউই যথাযথভাবে করতে পারে না। তাই তাঁকে বলা হয় ‘অবাঙ্মনসগোচর’। কিন্তু তবুও বিকৃত মনোভাবাপন্ন অল্পজ্ঞ কিছু মানুষ রয়েছে, যারা তাদের অপূর্ণ মনের জল্পনা-কল্পনার দ্বারা এবং তাঁর চিন্ময় কার্যকলাপ সম্বন্ধে তাদের ভ্রান্ত বর্ণনার দ্বারা তাঁকে জানতে চায়। সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর কার্যকলাপ, তাঁর আবির্ভাব এবং তিরোভাব, তাঁর নাম, তাঁর রূপ, তাঁর পরিকর, তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সাথে সম্পর্কিত সবকিছুই রহস্যজনক বলে মনে হয়।

দু’রকমের জড়বাদী রয়েছে; যথা – সকাম কর্মী এবং জ্ঞানী দার্শনিক। সকাম কর্মীদের পরম সত্য সম্বন্ধে কোন ধারণাই নেই, আর মনোধর্মী জ্ঞানীরা সকাম কর্মে ব্যর্থ হয়ে তাদের মনোধর্মপ্রসূত জল্পনা-কল্পনার মাধ্যমে পরমতত্ত্বকে জানবার চেষ্টা করে। এই উভয় শ্রেণীর লোকের কাছেই পরমতত্ত্ব রহস্যাবৃত, ঠিক যেমন একটি শিশুর কাছে যাদুকরের ভেলকিবাজি রহস্যাবৃত। অভক্তরা সকাম কর্মে এবং জল্পনা-কল্পনায় যতই পারদর্শী হোক না কেন, পরমেশ্বর ভগবানের মায়ার দ্বারা মোহিত হয়ে তারা সর্বদাই অজ্ঞানের অন্ধকারে আচ্ছন্ন। তাদের সীমিত জ্ঞান নিয়ে তারা অপ্রাকৃত জগতের রহস্যাবৃত প্রদেশে প্রবেশ করতে পারে না। মনোধর্মী জ্ঞানীরা অবশ্য স্থূল জড়বাদী বা সকাম কর্মীদের থেকে একটু উন্নত, কিন্তু যেহেতু তারা মায়ার দ্বারা আচ্ছন্ন, সেহেতু তারা মনে করে যে, যারই রূপ আছে, নাম আছে এবং কার্যকলাপ রয়েছে, তা নিশ্চয়ই জড়া প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন হয়েছে। তাদের কাছে পরমেশ্বর ভগবান নিরাকার, নামহীন এবং কর্মহীন। আর যেহেতু এই ধরনের মনোধর্মীরা পরমেশ্বর ভগবানের অপ্রাকৃত নাম এবং রূপকে জড় নাম এবং রূপের সমপর্যায়ভুক্ত বলে মনে করে, তাই তারা এক-একটি মহামূর্খ ছাড়া আর কিছু নয়। তাদের সেই স্বল্প জ্ঞানের দ্বারা তারা কখনই পরমেশ্বর ভগবানের যথার্থ প্রকৃতিতে প্রবেশ করতে পারে না।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণনা করা হয়েছে যে, পরমেশ্বর ভগবান সর্বদাই তাঁর দিব্য প্রকৃতিতে বিরাজ করেন, এমন কি যখন তিনি এই জগতে অবতরণ করেন, তখনও তিনি তাঁর দিব্য প্রকৃতিতেই অধিষ্ঠিত থাকেন। কিন্তু মূর্খ মানুষেরা মনে করে যে, পরমেশ্বর ভগবান এই পৃথিবীর আর পাঁচ জন মহৎ মানুষের মতো, এবং এইভাবে তারা ভগবানের মায়াশক্তির দ্বারা মোহাচ্ছন্ন হয়।

Krishna

ভগবানের অবতরণ মাহাত্ম্য পাঠ : দুঃখদুর্দশা থেকে মুক্তি

“যে মানুষ মনোযোগ সহকারে ভগবানের রহস্যপূর্ণ প্রকট অর্থাৎ অবতরণের কথা সকাল এবং সন্ধায় ভক্তিপূর্বক পাঠ করেন, তিনি জড় জগতের সমস্ত দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত হন।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৩.২৯)

ভগবদগীতায় ভগবান ঘোষণা করেছেন যে, কেউ যদি তত্ত্বগতভাবে ভগবানের জন্ম এবং কর্ম সম্বন্ধে অবগত হয়, তাহলে সে দেহত্যাগের পর জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারে। তাই কেবল পরমেশ্বর ভগবানের রহস্যাবৃত অবতরণের কথা তত্ত্বত জানতে পারলে জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায়। তাই জগজ্জীবের মঙ্গলের জন্য ভগবান যে তাঁর জন্ম এবং কর্ম এই জগতে প্রকাশ করেন তা সাধারণ নয়। তা রহস্যজনক, এবং যাঁরা ভক্তি সহকারে অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে তার গভীরে প্রবেশ করেন, তাঁদের কাছেই কেবল এই রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। এইভাবে জীব জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে। সেই জন্যই ভগবানের আবির্ভাব এবং বিভিন্ন অবতরণের কথা বর্ণিত হয়েছে এবং কেউ যদি কেবল ঐকান্তিক ভক্তি সহকারে তা পাঠ করেন, তাহলে তিনি ভগবানের দিব্য জন্ম এবং কর্ম সম্বন্ধে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারেন।

হরিবোল!

Krishna

Radha – Eternally Aparampar...Apar...Her Love Has No Par...

In every breath till it lasts…
…Radha knows and will know only You, Oh! Krsna,
In every sound that whispers by in this Cosmic Repertoire… 429 more words

Heart Full Of Love

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত অবতারের অবতারী

এখানে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে অন্যান্য অবতারদের পার্থক্য নিরূপিত হয়েছে। তাঁকে অবতারের মধ্যে গণনা করা হয়, কেননা তাঁর অহৈতুকী কৃপার প্রভাবে ভগবান তাঁর চিন্ময় ধাম থেকে এই জগতে অবতরণ করেন। ভগবানের সমস্ত অবতার, এমনকি ভগবান নিজেও এই জড় জগতের বিভিন্ন গ্রহে বিভিন্নরূপে অবতরণ করেন কোন বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য। কখনও তিনি স্বয়ং অবতরণ করেন, আবার কখনো বা বিভিন্ন অংশ অথবা অংশের অংশ বা কলা অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁর শক্তির দ্বারা আবিষ্ট শক্ত্যাবেশ অবতার কোন বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য এই জগতে অবতরণ করেন। ভগবান ষড়ৈশ্বর্যপূর্ণ – তাঁর মধ্যে সমস্ত ঐশ্বর্য, সমস্ত বীর্য, সমস্ত যশ, সমস্ত শ্রী, সমস্ত জ্ঞান এবং সমস্ত বৈরাগ্য রয়েছে। সেগুলি যখন আংশিকভাবে তাঁর অংশ অথবা কলার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তখন বুঝতে হবে যে, তাঁর বিভিন্ন শক্তির এই প্রকাশ কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য।

দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, পরশুরাম একুশবার পৃথিবীকে ক্ষত্রিয়শূণ্য করেন এবং নৃসিংহদেব দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে সংহার করে অস্বাভাবিক ঐশ্বর্য প্রদর্শন করেছিলেন।ভগবানের শক্ত্যাবেশ অবতার নারদ ও অংশ অবতার বরাহ এবং পরোক্ষভাবে শক্ত্যাবিষ্ট অবতার বুদ্ধ জনসাধারণের মনে বিশ্বাস উৎপাদন করেছিলেন। শ্রীরামচন্দ্র ও ধন্বন্তরি তাঁর যশ প্রকাশ করেছিলেন এবং বামন তাঁর সৌন্দর্য প্রকাশ করেছেন। দত্তাত্রেয়, মৎস্য, কুমার এবং কপিল তাঁর অপ্রাকৃত জ্ঞান প্রদর্শন করেছেন। নর এবং নারায়ণ ঋষি তাঁর বৈরাগ্য প্রদর্শন করেছেন। এইভাবে ভগবানের বিভিন্ন অবতারেরা প্রত্যক্ষভাবে অথবা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন রূপ প্রকাশ করেছেন; কিন্তু পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের পূর্ণ রূপ প্রদর্শন করেন। এইভাবে প্রতিপন্ন হয় যে, তিনিই সমস্ত অবতারের অবতারী।

শ্রীল জীব গোস্বামীর বর্ণনা অনুসারে, মহাজনদের মতে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সমস্ত অবতারের অবতারী। এমন নয় যে, শ্রীকৃষ্ণের কোনও অবতারী রয়েছে। পরমতত্ত্বের লক্ষণগুলি পূর্ণরূপে শ্রীকৃষ্ণে রয়েছে, এবং ভগবদ্গীতায় ভগবান নিজেই ঘোষণা করে গেছেন যে, তাঁর থেকে বড় অথবা তাঁর সমান আর কোনও সত্য নেই। (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৩.২৮)

Krishna

ভগবানের ২২ অবতার

১। কুমার অবতার: ব্রহ্মার চতুঃসন – সনক, সনৎকুমার, সানন্দ, সনাতন।

২। বরাহ অবতার: এই পৃথিবী যখন রসাতলে পতিত হয়েছিল, তখন এই বিশ্বের মঙ্গলের জন্য পৃথিবীকে উদ্ধার করতে ইচ্ছুক হয়ে সমস্ত যজ্ঞের পরম ভোক্তা যজ্ঞেশ্বর বিষ্ণু দ্বিতীয় অবতারে বরাহ রূপ ধারণ করেছিলেন।

Krishna